Wednesday, January 4, 2012

"বিখ্যাতদের মজার ঘটনা"













1.
ঘটনা.এক
১৭৯৯ সালে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধরত ছিলেন নেপোলিয়ান বেনোপোর্ট।একদিন তিনি সহকারীদের বললেন,১২০০ তুর্কি বন্দীকে মুক্তি দিতে।কিন্তু আদেশ দেয়ার ওই মুহুর্তেই বেদম কাশি শুরু হয় তাঁর।বিরক্ত হয়ে বলেন,“মা সাকরি তাকস”(কি বিদঘুটে কাশি)।সহকারীরা ভুলে শুনলেন,“মাসাকরি তাওস”(হত্যা করো সবাইকে)।সেদিন সামান্য কয়েকটি শব্দের হেরফেরে প্রাণ গিয়েছিলো ১২০০ বন্দীর।
ঘটনা.দুই
দ্বিতীয় মোহাম্মদ সুলতান শা্হ(১৪৫১-১৪৮১) তুরষ্ক শাসন করার সময় নিষ্ঠুর রসিকতায় আনন্দ পেতেন। একদিন ভোজের সময় বাইরে তার ডাক পড়ল। ফিরে দেখেন তার থাবার জন্য রাখা আস্ত এক তরমুজ উধাও। তার সাথে ১৪ জন সভাসদ খাবার খাচ্ছিলেন। তারাও কিছু বলতে পারলেন না।নিষ্ঠুর সুলতান তখন দক্ষ শল্যবিদ ডেকে এনে সবার পেট কাটালেন । কিন্তু কারো পেটে তরমুজ পাওয়া গেল না্।তখন হাসতে হাসতে ক্ষমা চাইলেন নিষ্ঠুর রসিক সুলতান।
ঘটনা.তিন
২৬৩ খ্রিষ্টপূবার্ব্দে হাসতে হাসতে মারা গিয়েছিলেন বিখ্যাত গ্রীস কবি ফিলমোন।একদিন দুপুর বেলা খাবার খেতে এসে তিনি দেখেন তার থাবার একটি গাধা খেয়ে নিচ্ছে। ঘটনাটি দেখে তার বেদম হাসি পায় এবং গলায় খাবার আটকে গিয়ে তিনি মারা যান।
 
২.
ইরানের খারেজীম রাজ্যের বাদশাহর যুবক পুত্র হঠাৎ এক অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে এবং সেই রাজ্যের সকল চিকিৎসক ও হেকিম তার রোগ নির্ণয় করতে ব্যর্থ হয়।এই সময় সৌভাগ্যক্রমে সেই রাজ্যে অবস্হান করছিলেন ইবনে সিনা।তাঁর অগাধ পান্ডিত্য সম্পর্কে বাদশাহ আগে থেকেই জ্ঞাত ছিলেন।তলব করা হলো তাকে।ইবনে সিনাও সানন্দে গ্রহণ করলেন দায়িত্ব।তবে তিনি যুবরাজকে দেখে প্রথমে রোগ নির্ণয় করতে পারলেন না।তারপর তার হাতের নাড়ী পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখতে পেলেন,তিনি যখন প্রাসাদ রক্ষীদের প্রধানের কাছে সেই প্রাসাদের বাসিন্দাদের বিভিন্ন কক্ষের অবস্হান সম্পর্কে প্রশ্ন করছিলেন তখন একটি বিশেষ কক্ষের উল্লেখমাত্রই যুবরাজের নাড়ীর গতি বৃদ্ধি পাচ্ছিলো।তিনি আরো অনুসন্ধান করে জানতে পারলেন সেই কক্ষে যুবরাজের এক আত্মীয়া থাকে।মেয়েটি যুবতী এবং সুন্দরী।ইবনে সিনার কাছে সব পরিষ্কার হয়ে গেল।তিনি বাদশাহকে যুবতীর সঙ্গে যুবরাজের বিয়ে দেবার পরামর্শ দিলেন।বাদশাহ্ যুবতীর সঙ্গে যুবরাজের বিয়ে ঠিক করলেন।তিনি সবাইকে বিয়ের আয়োজন করতে বললেন।পরবর্তীতে দেখা গেল ইবনে সীনার অনুমানই সঠিক।বিয়ের আয়োজন শেষ হওয়ার পূর্বেই যুবরাজ সুস্হ হয়ে উঠলেন।
 
৩.
আফগানিস্তানে ওসামা বিন লাদেন এর পরিত্যক্ত সদর দফতরে অন্যান্য জিনিসপত্রের সাথে পাওয়া গিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত ফান ম্যাগাজিন “ম্যাড” এর ২৭ টি সংখ্যা।ধৃত আল কায়েদের অন্য সদস্যরা বলেছিলো,বিন লাদেন বইপত্র পড়তেন খুব এবং “ম্যাড” ছিলো তার সবচেয়ে পছন্দের ম্যাগাজিন।
 
৪.
১৯৩৬ সাল। ভারত বনাম ইংল্যান্ড ক্রিকেট ম্যাচ চলছে।ফিল্ডিং করছে ইংল্যান্ড দল।বল করছেন ফাস্ট বোলার আলফ গাওয়ার।তৃতীয় বল ছোড়ার জন্য ছুটতে শুরু করলেন গাওয়ার।কিন্তু ব্যাটসম্যানের দিকে বল না ছুড়ে তিনি হাতে বল নিয়ে ছোটা শুরু করলেন।ছুটছেন তো ছুটছেন।একসময় পেরিয়ে গেলেন আম্পায়ার,পিচ,দর্শক তারপর প্যাভিলিয়ন।তখনও সেই বল তাঁর হাতে।পরে জানা যায়,প্রকৃতির ডাক তাঁকে এত চেপে ধরেছিলো যে হাতের বলটি আর কাউকে দেওয়ার সময় পাননি গাওয়ার।তাই তাঁর অমন তড়িৎ প্রস্হান!
 
 ৫.
শান্তিনিকেতনের অধ্যাপক নেপাল রায়কে রবীন্দ্রনাথ একবার লিখে পাঠালেন, ‘আজকাল আপনি কাজে অত্যন্ত ভুল করছেন। এটা খুবই গর্হিত অপরাধ। এজন্য কাল বিকেলে আমার এখানে এসে আপনাকে দণ্ড নিতে হবে।’
চিন্তিত, শঙ্কিত নেপালবাবু পরদিন শশব্যস্তে কবির কাছে উপস্থিত হলেন। আগের রাতে দুশ্চিন্তায় তিনি ঘুমাতে পারেননি। এখনো তাঁকে বেশ কিছুক্ষণ উত্কণ্ঠার মধ্যেই বসিয়ে রেখেছেন কবিগুরু। অবশেষে পাশের ঘর থেকে একটি মোটা লাঠি হাতে আবির্ভূত হলেন কবি। নেপালবাবুর তখন ভয়ে কাণ্ডজ্ঞান লুপ্তপ্রায়। তিনি ভাবলেন, সত্যি বুঝি লাঠি তাঁর মাথায় পড়বে। কবি সেটি বাড়িয়ে ধরে বললেন, ‘এই নিন আপনার দণ্ড! সেদিন যে এখানে ফেলে গেছেন, তা একদম ভুলে গেছেন।’
 
৬.
হাওড়া জেলা স্কুলের একটা ক্লাস রুম।একটু বেঁটে খাটো,স্বাস্হ্য ভালো এক ছেলে এসে ক্লাসে ঢুকলো।এত গরমের ভেতরেও গায়ে কোট চাপানো।এমনিতেই একটু মোটাসোটা ।আজকে আরো বেঢপ হয়েছে দেখতে।ছেলেরা হাসাহাসি শুরু করেছে।অথচ ছেলেটি চিন্তামগ্ন।আজ তার বুকটা ভয়ে ঢিব ঢিব করছে।কখন ডাক আসবে স্যারের।তারপর পিটুনী।কারণ গতকাল যাদের সে মেরেছিল তারা নিশ্চয় নালিশ জানিয়েছে শিক্ষকের কাছে।অবশেষে ডাক এলো।শিক্ষক তাকে যতই প্রশ্ন করেন ততই ছেলেটা গুটিয়ে ফেলে নিজেকে,কোন জবাব দেয় না।শিক্ষক রেগে গেলেন। গায়ের কোট ধরে টান মারলেন।অবাক কান্ড!বেরিয়ে এলো শাড়ী।সারা গায়ে জড়ানো।তার উপর শার্ট।শার্টের উপর এই কোর্ট।হাসির রোল বয়ে গেল সারা ক্লাসে।স্যার আর কি বিচার করবেন তিনিও হেসে ফেললেন ছেলেটির কান্ড দেখে,ছেড়ে দিলেন তাকে।এই ছোট্ট ছ্লেটি আর কেউ নয়,তিনি হলেন ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
৭.
১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয় ভিক্টর হুগোর বিখ্যাত বই “লা মিজারেবল”। তখন এটি নিয়ে হৈ চৈ পড়ে যায়। নানা সমালোচক এবং নানা খবর পত্র পত্রিকায় আসে। কিন্তু সেখান থেকে ভিক্টর হুগো বুঝতে পারলেন না বইটি বিক্রি হচ্ছে কেমন।
অবশেষে তিনি এর উত্তর জানার জন্য প্রকাশককে খুব ক্ষুদ্র একটা চিঠি দিলেন শুধুমাত্র “?”লিখে। প্রকাশক “?” এর মানে বুঝতে পারলেন এবং জবাব দিলেন “!” ।
 
সুন্দরী অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর একটি ছোকরা চীনা ভৃত্য ছিল।
মিস মনরো তাকে বললেন: যখন ঘরে ঢুকবে তখন আগে সাড়া দেবে। কারণ আমি সে সময় তো জামা-কাপড় বদলাতেও পারি।
কিছুক্ষণ বাদে ঐ ছেলেটি দরজায় টোকা না দিয়েই মিস মনরোর শয়নকক্ষে ঢুকে পড়ল।
মিস মনরো: একটু আগে তোমাকে বললাম না দরজায় টোকা দিয়ে তবে ঘরে ঢুকবে। তুমি কী করে জানলে আমি জামা ছাড়ছি না ?
ভৃত্য: ম্যাডাম, এটা খুবই সহজ ব্যাপার। দরজাতে চাবির যে ফুটো আছে সেটা দিয়ে দেখে নিয়েছি আপনি কী করছেন।
৮.
কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের অর্থিক অনটনের সময় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর উনাকে টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করতেন। একদিন এক মাতাল উনার কাছে সাহায্য চাইতে এলে বিদ্যাসাগর বললেন-আমি কোন মাতালকে সাহায্য করি না।
কিন্তু আপনি যে মধুসুদনকে সাহায্য করেন তিনিওতো মদ খান-মাতালের উত্তর।
বিদ্যাসাগর উত্তর দেন -ঠিক আছে আমিও তোমাকে মধুসূদনের মত সাহায্য করতে রাজী আছি তবে তুমি তার আগে একটি “মেঘনাদ বধ” কাব্য লিখে আন দেখি?
৯.
পরমানু মডেলের জনক নীলস বোর এমনিতেই ছিলেন খুব শান্ত শিষ্ট মানুষ । এটা তার ছেলে বেলার ঘটনা।স্কুলে ফাইনাল পরীক্ষা চলছে । তার মা তাকে নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন। ছেলেটা পরীক্ষা কেমন দিচ্ছে তা কোন দিনই বলেনা। তাই পরীক্ষা থেকে ফিরে এলে মা প্রতিবারই প্রশ্ন করে “কেমন পরীক্ষা দিয়েছ নীলস বোর”। নীলস বোরের বিরক্তমুখে একই কথা “ভালই”। আর কিছুই সে বলত না। তো একদিন যথারীতি পরীক্ষা শেষে মা জিজ্ঞেস করলেন পরীক্ষার কথা। নীলস বোর সাথে সাথে তার পরীক্ষার খাতা বের করে বলল “প্রতিদিনই তুমি একই কথা জিজ্ঞেস করো,তাই আজ খাতা নিয়ে আসলাম, এবার দেখ আমি কেমন পরীক্ষা দেই !
৮.

2 comments: